রাজপুত্রের ভয় – ভয়কে করতে হবে জয়

রাজপুত্রের ভয়

অজেয় রায়

এক রাজ্য ছিল। না খুব বড়ো। না খুব ছোটো। মাঝারি। সুজলা সুফলা দেশ। সে রাজ্যে কেউ ধনী, কেউ বা গরিব।

তবে সবারই অন্তত দু-বেলা খাওয়া জোটে, মাথার ওপর ছাদ আছে, তা সে যেমন-তেমন হোক। রাজ্যের লোক মোটামুটি সুখেশান্তিতে বাস করে।

রাজার একটি মাত্র ছেলে। সেই পাবে সিংহাসন বাবা মারা গেলে। রাজপুত্র দেখতে সুন্দর। সুপণ্ডিত। নিরহংকার। ঘোড়ায় চড়ায় পটু। অস্ত্র চালনা জানে। তার অনেক গুণ।

তবে রাজপুত্রের মনে একটা বিষয়ে গভীর ভয়। সেই ভয়ের কথা সে কাউকে বলতে পারে না লজ্জায়।

রাজপুত্রের বয়স যখন বছর পঁচিশ, রাজার হল কঠিন অসুখ। বেশ বয়সও হয়েছিল রাজার। অনেক হেকিম-বদ্যির চিকিৎসায় কোনো ফল হল না। রাজা দেহ রাখলেন। রাজ্য জুড়ে শোকের ছায়া নামল। রাজপুত্র বড়ো মুষড়ে পড়ল।

পরদিন রাজ্যের মন্ত্রী এলেন রাজপুত্রের কাছে। বললেন, ‘এবার তো আপনাকে রাজা হতে হবে। তবে এ রাজ্যে এক নিয়ম আছে।

বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে জিতে তবেই সিংহাসনে বসতে পাবে নতুন রাজা। রাজপ্রাসাদের চিড়িয়াখানায় যে বাঘটা আছে তার সঙ্গে লড়তে হবে আপনাকে।’

শুনেই রাজপুত্রের বুক ধড়াস করে ওঠে। কারণ বাঘকে তার ভীষণ ভয়। ছোটো থেকে দেখেছে সে রাজপ্রাসাদে পশুপাখির চিড়িয়াখানায় একটা না একটা বাঘ থাকে।

পুরোনো বাঘটা মরে গেলে নতুন বাঘ আসে। এখনকার বাঘটা আছে বছর ছয়েক। ডোরাকাটা কেঁদো বাঘ। যেমন চেহারা, তেমনি ডাক।

ছোটো থেকেই বাঘের হুংকার শুনলে রাজকুমারের বুক ধড়ফড় করে। বাঘের হিংস্র চাউনি দেখলে তার গা হাত পা জমে যায়। ভয়ে সে বাঘের খাঁচার ধারেকাছে ঘেঁষত না।

পাছে লোকে ঠাট্টা করে সে তাই কাউকে বলেনি তার বাঘের ভয়ের কথা। মনের এই ভয় এতকাল গোপন রেখেছে।

মন্ত্রী তো ফতোয়া জারি করে চলে গেলেন। রাজপুত্র একা বসে ভাবেন আর ভাবেন। প্রাণের চেয়ে কি সিংহাসনের মায়া বেশি? থাক রাজ্যপাট। আগে প্রাণে বাঁচি। পালাই এখান থেকে।

কাউকে বলে যাওয়ার দরকার কী? মা বেঁচে থাকলে বলে যেতাম মাকে, ভেবো না মা, নতুন রাজ্য বানিয়ে রাজা হব আমি। তোমায় নিয়ে যাব সেখানে। কিন্তু মা যে গত হয়েছেন কয়েক বছর আগে।

সেই রাতে রাজপ্রাসাদের সবাই যখন ঘুমে অচেতন, রাজপুত্র নিঃসাড়ে বিছানা ছেড়ে উঠে খিড়কির দরজা খুলে বেরোল। প্রাসাদচত্বরে এখানে-ওখানে তেলের বাতি জ্বলছে।

কোথাও আলো, কোথাও আঁধার। ফটকের দু-পাশে তরবারি কোলে রেখে টুলে বসে ঢুলছে দুই প্রহরী। রাজপুত্র পা টিপে টিপে পেরোল ফটক। কাছেই আস্তাবল। আস্তাবলের প্রহরী খোলা ফটকের ধারে শুয়ে দিব্যি নাক ডাকাচ্ছে।

আস্তাবলে ঢুকল রাজপুত্র। নিজের দুধসাদা তেজি ঘোড়াটির লাগাম ধরে বেরিয়ে গেল ফটক দিয়ে। দ্বারী টেরটি পেল না। কিছু দূর হেঁটে গিয়ে রাজপুত্র চড়ে বসল ঘোড়ায়।

চলল ঘোড়া ধীর কদমে। রাজপুত্রের পরনে নেই রাজপোশাক। গভীর রাতে পথ প্রায় জনহীন। কেউই খেয়াল করল না কে এই ঘোড়সওয়ার। রাজধানীর সীমানা পেরিয়েই চাবুক খেয়ে তিরবেগে ছুটল ঘোড়া।

ফটফটে চাঁদের আলোয় পথ দেখতে অসুবিধা নেই। রাজপুত্র রাজ্য ছেড়ে পালাতে থাকে দূরে, বহু দূরে।

পরদিন সকালে রাজপ্রাসাদের লোক দেখে যে রাজপুত্র নেই। খোঁজ খোঁজ। কোথাও পাওয়া গেল না রাজপুত্রকে। রাজ্যে হাহাকার উঠল।

মন্ত্রী, কোটাল, সেনাপতি—আর আর সব মহা মহা অমাত্যদের মাথায় হাত। কী করা? ঠিক হল, চলুক খোঁজাখুজি। দেখি কিছুদিন। তারপর যা হয় করা যাবে।

রটিয়ে দেওয়া হল যে রাজপুত্র হঠাৎ একটা কাজে গেছেন বাইরে। ফিরতে বেশি দেরি হবে না।

এদিকে সারারাত ঘোড়া ছুটিয়ে, কত গ্রাম, কত মাঠ, কত বন ছাড়িয়ে রাজপুত্র খুব ভোরে এক চাষির কুটিরের দরজায় থামল। রাজকুমার চাষিকে বলল, ‘আমি এক রাজপুত্র।

ঘোর বিপদে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছি। আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’

চাষির দয়া হল। সে তার কুটিরে থাকতে দিল রাজপুত্রকে। চাষির ঘরের মোটা চালের ভাত আর তরকারি খেয়ে রাজপুত্রের খিদে মেটে। খানিক ঘুম দিয়ে রাজপুত্র চাঙা হয়।

চাষির অনেকগুলি গোরু ছিল। পরদিন একটি বাগাল ছেলে ওই গোরুগুলি চরাতে নিয়ে যাচ্ছে দেখে রাজপুত্র তার সঙ্গ ধরল।

কাছেই এক বন। বনের ধার ঘেঁষে বইছে এক ছোটো নদী। গোরুগুলিকে নদীর তীরে ঘাস খেতে ছেড়ে দিয়ে বাগাল ছেলেটি একটা বাঁশি বের করে বাজাতে লাগল।

অপূর্ব মিঠে সুর। রাজপুত্র মোহিত হয়ে শোনে। বাঁশি শুনতে শুনতে সে নিজের দুঃখ ভুলে যায়। দুপুরে বাগালের সাথে ভাগাভাগি করে রাজপুত্র জেভানো চিঁড়ে খায়, নদীর জল খেয়ে তেষ্টা মেটায়।

কিন্তু বিকেল হতে না হতে বাগাল বলল, ‘চলুন বাড়ি ফিরি।’ রাজপুত্রের উঠতে ইচ্ছে করে না। বলে, ‘এখনও তো বেলা রয়েছে, তুমি বরং আর একটু বাঁশি শোনাও।’

বাগাল বলল, ‘না না, এ বনে অনেক বাঘ আছে। সন্ধের আগেই তারা বাইরে বেরোয়। আমায় একদিন বাঘে তাড়া করেছিল। খুব বেঁচে গেছি সেদিন। বাঘ গ্রামেও যায় কখনো কখনো।’

চাষির ঘরে ফিরে রাজপুত্র ভাবে, কী মুশকিল, এখানেও যে বাঘের ভয়। তাহলে থাকি কোন সাহসে। নাঃ এখান থেকে পালাই।

পরদিন খুব ভোরে কাউকে কিছু না বলে রাজপুত্র চাষির বাড়ি ছেড়ে ঘোড়া ছোটাল যেদিকে দু-চোখ যায়।

আবার কত বন, কত মাঠ, কত গ্রাম ছাড়িয়ে বিকেলে রাজপুত্র এক পাহাড়ের কোলে হাজির হল। সেখানে একদল বেদে তাঁবু ফেলেছিল। বেদেরা রাজপুত্রকে তাদের বৃদ্ধ সর্দারের কাছে নিয়ে গেল।

রাজপুত্র সর্দারকে বলল, ‘আমি এক রাজার ছেলে। ঘোর বিপদে পড়ে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছি। যদি আমায় কিছুদিন আশ্রয় দেন?

রাজপুত্রের সুন্দর মলিন মুখ দেখে সর্দারের বড়ো মায়া হল। সে রাজপুত্রকে তাদের তাঁবুতে থাকতে দিল। রাজপুত্র বেদেদের মতো আধপোড়া মাংস আর ফলমূল খেয়ে বাস করতে থাকে সেখানে।

রাজপুত্রের স্বভাবগুণে তার ওপর বেদেসর্দারের টান বাড়ে। তাতে দলের অন্য পুরুষদের হিংসে হয়। তারা সর্দারকে বলল, ‘এ লোকটা কোথা থেকে এসে জুটল? ও কি আমাদের মতো কাজ করতে পারে? ওকে এত আদরযত্ন করছ কেন? হয়তো ও নেহাতই ভীতু কাপুরুষ।

সর্দার তখন রাজপুত্রকে ডেকে বলল, ‘দূরে ওই পাহাড়, ওখানে অনেক বাঘ আছে। কাল তুমি আমার বর্শা আর তরবারি নিয়ে যাও এই পাহাড়ে। একটা বাঘ মেরে আনো। তাহলে কেউ আর তোমায় ভীরু কাপুরুষ বলতে পারবে না।’

শুনেই রাজপুত্রের আক্কেল গুড়ুম। ভাবে সে, এ কী কাণ্ড! এখানেও সেই বাঘের ভয়! নাঃ এখানে আর নয়।

পরদিন ভোরের আলো না ফুটতেই রাজপুত্র নিজের ঘোড়ায় চড়ে পালাল সেখান থেকে।

যেতে যেতে যেতে—বিকেলবেলা রাজপুত্র এক নগরের কাছে পৌঁছোল। নগরের ধারে এক চমৎকার প্রাসাদ। পাঁচিলে ঘেরা বিশাল এলাকায় বাগানের মাঝে ছবির মতো বাড়িটি।

ওই বাড়িতে থাকেন এক ধনী সওদাগর। রাজপুত্র সেই সওদাগরের কাছে হাজির হয়। জানায়—‘আমি এক হতভাগ্য রাজপুত্র।

ঘোর বিপদে পড়ে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছি। যদি আমায় কিছুদিন আশ্রয় দেন তো খুব উপকার হয়।’

রাজপুত্রের সুন্দর চেহারা, গায়ে ছিন্ন দামি পোশাক, আর হাবেভাবে কথায় সওদাগরের মনে বিশ্বাস হয়। তিনি সসম্মানে রাজপুত্রকে সেই বাড়িতে আশ্রয় দিলেন।

পরদিন দুপুরে আহারের পর রাজপুত্র সওদাগরের সঙ্গে কথা বলছে, এমন সময় বাইরে যেন বাঘের ডাক শোনা গেল। রাজপুত্র চমকে বলে, ‘ও কীসের ডাক?’

সওদাগর বললেন, ‘ও কিছু না, ভালু ডাকছে।’ তিনি নির্বিকার ভাবে ফের কথা শুরু করলেন। রাজপুত্র ভাবল যে ভালু বুঝি কোনো বড়ো জাতের কুকুর। তাই অমন বাঘের মতন ডাক।

রাতে খাবার পর সওদাগর ও রাজপুত্র বাগানে বেড়ায় খানিক। চাঁদের আলো। ফুরফুরে বাতাসে নানা ফুলের সুগন্ধ ভাসে। রাজপুত্র মনে ভারি আরাম পায়।

সব দুর্ভাবনা মুছে যায় তার মন থেকে। বেড়িয়ে বাড়িতে ঢোকার সময় রাজপুত্র দেখে যে অট্টালিকার সিঁড়িতে শুয়ে আছে এক বাঘ। দেখেই রাজপুত্র ভয়ে কাঠ।

সওদাগর বোঝালেন রাজকুমারকে, ‘কোনো ভয় নেই, ভালু কাউকে কিছু বলে না। ও পোষা কুকুরের মতন হয়ে গেছে।’ তবু ওই.সিঁড়ি দিয়ে বাঘের পাশ কাটিয়ে উঠতে সাহস হয় না রাজপুত্রের।

শেষে বাড়ির পেছনের দিকে একটা দরজা খুলে দেওয়া হল। সেই পথে বাড়িতে ঢোকে রাজপুত্র।

রাতে শুয়ে রাজপুত্র ভাবে, হায় এ কী ভাগ্য আমার। যেখানেই যাই সেখানেই বাঘ। এই বাঘের ভয়ে সিংহাসন ছাড়লাম, চাষির কুটির ছাড়লাম, বেদেদের আশ্রয় ছাড়লাম, এখানেও সেই বাঘের ভয়।

তবে এমন পথে পথে ঘুরি কেন? বাঘের হাতে প্রাণ দিতে হলে বরং নিজের দেশে গিয়ে মরি।

রাজপুত্র খুব ভোরে বিছানা ছেড়ে উঠে, কাউকে কিছু না বলে ধীরে ধীরে আস্তাবলে গিয়ে, নিজের ঘোড়াটি বের করে চড়ে দেশের দিকে রওনা হল।

রাজপুত্র ফিরতেই তার রাজ্যের লোক আনন্দে হইহই করে ওঠে। মন্ত্রী এসে রাজপুত্রকে বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে সিংহাসনে বসার অনুরোধ করলেন আবার। মনমরা রাজপুত্র জানায়, ‘বেশ তাই হোক।’

পরদিন রাজপুত্র রাজবেশ পরে, একটা বর্শা নিয়ে রাজপ্রাসাদের চিড়িয়াখানায় বাঘের খাঁচায় ঢুকল। রাজ্যের হোমরাচোমরা অমাত্যরা খাঁচা ঘিরে দাঁড়ায়—তাদের পিছনে দেশের অন্য লোকেদের ভিড়। খাঁচার দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

রাজপুত্রের হাতে বর্শা। বাঘের দিকে চোখ। ভয়ে তার মন অবশ, দেহ অবশ। বিসাল বাঘটা রাজপুত্রের দিকে তাকিয়ে কয়েকবার ভয়ংকর গর্জন করল।

তারপর গুঁড়ি মেরে গিয়ে রাজপুত্রের পায়ের সামনে মাথা নামাল মাটিতে। অর্থাৎ বাঘ বশ্যতা স্বীকার করল। দর্শকরা জয়ধ্বনি দিয়ে ওঠে এই দৃশ্য দেখে।

হতভম্ব রাজপুত্র বেরিয়ে আসে খাঁচা থেকে। আর তার সিংহাসনে বসতে বাধা নেই।

মন্ত্রী গোপনে জিজ্ঞেস করলেন রাজপুত্রকে, ‘এতদিন ছিলেন কোথায়?? রাজপুত্র মন্ত্রীকে সব খুলে বলে কেন সে পালিয়েছিল দেশ ছেড়ে। কোথায় কোথায় গিয়েছিল। কী অভিজ্ঞতা হয়েছে। সব কথা।

মন্ত্রী হেসে বলেন, ‘আপনি বৃথা ভয় পেয়ে এত কষ্ট পেলেন। এই রাজপ্রাসাদের বাঘ শিক্ষিত।

এই চিড়িয়াখানায় যে বাঘ থাকে তাকে এমন ভাবে শেখানো হয় যে খাঁচায় কোনো মানুষ ঢুকলে শিক্ষকের ইশারা পেলে বাঘ দু-চারবার তর্জনগর্জন করে মানুষটির পায়ের তলায় লুটিয়ে পড়ে।’

রাজপুত্র সখেতে বলল, ‘আমার মতো আহাম্মকের এই শাস্তিই পাওনা ছিল।’ মন্ত্রী তাঁর সাদা দাড়িতে হাত বুলোতে বুলোতে বললেন, ‘রাজকুমার আমি আপনার পিতার বয়স্য ছিলাম। আপনার মঙ্গল কামনা করি।

এই বৃদ্ধের কিছু পরামর্শ শুনুন—কোনো ভয়কেই ভালো ভাবে না জেনে পুষে রাখবেন না মনে। সাহস করে সেই ভয়ের মুখোমুখি হলে অনেক সময় দেখবেন, ওই ভয় তেমন বড়ো কিছু নয়। নেহাতই তুচ্ছ ব্যাপার।’

মাথা নত করে রাজপুত্র বলল, ‘আপনি উচিত কথাই বলেছেন মন্ত্রীমশাই।’ এবার নতুন রাজার সিংহাসনে অভিষেকের পালা, তাই রাজ্য জুড়ে নানান উৎসব শুরু হয়।

আনন্দে মেতে ওঠে গোটা দেশ। ওই রাজ্যের বাইরে থেকেও কত লোক আসে উৎসব দেখতে।

রাজপুত্র রাজধানীতে ডেকে আনে সেই কৃষককে, সেই বেদেসর্দারকে, আর সেই ধনী সওদাগরকে—বিপদের সময় যাদের কাছে সে আশ্রয় পেয়েছিল।

রাজপুত্র ওই অতিথিদের ভারি সমাদর করল, দামি দামি উপহার দিল। অতিথি তিনজনও প্রাণখুলে আশীর্বাদ জানায় নতুন রাজাকে।

আরও পড়ুন –

রাজপুত্রের ভয় – ভয়কে করতে হবে জয়

ঝলমল সিং

admin

I am Asis M Maiti. I am currently working in a private institution. After completion of my academic so far I am learning about many new concepts. Try to circulate these to the people nearby. To explore my thinking to worldwide I am in the world of blogging. Love to eat, travel, read.Love to explore various movies. You will not be bored here.Keep in touch.You are inspiration to me.

1 thought on “রাজপুত্রের ভয় – ভয়কে করতে হবে জয়”

Leave a Comment